আপনি কি জানেন এই মহিলারা যৌনসঙ্গমে প্রচন্ড ব্যথায় কাতরান!
নারী-পুরুষ সবার কাছে যৌনসঙ্গমের মুহূর্ত ভীষণ আনন্দের। কিন্তু সম্প্রতি এক সমীক্ষায় দেখা গিয়েছে প্রতি দশজন নারীর মধ্যে একজনের কাছে যৌনসঙ্গম বেদনাদায়ক একটি কাজ।
ব্রিটিশ জার্নাল অব অবসটেট্রিস অ্যান্ড গাইনোকলোজি ১৬ থেকে ৭৪ বছর বয়সী সাত হাজার মহিলার উপর এই সমীক্ষাটি চালানো হয়। এদের সবারই রয়েছে নিয়মিত যৌন সম্পর্কের অভিজ্ঞতা।
সঙ্গম উপভোগ না করা বা সঙ্গম করতে গিয়ে কষ্ট পাওয়ার এই ব্যাপারটি চিকিৎসা বিজ্ঞানে ডিসপ্যারেনিয়া নামে পরিচিত। এটা সব বয়সী নারীর ক্ষেত্রেই ঘটতে পারে।
পঞ্চাশ এবং ষাট বছরের মাঝামাঝি বয়েসী মহিলারা এই সমস্যায় ভুগতে পারেন। আবার হতে পারে ১৬ থেকে ২৪ বছরের তরুণীদেরও। এটা হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে বলছেন গবেষকরা। চিকিৎসায় এই সমস্যা ঠিক হতে পারে।
গবেষণায় বেরিয়ে আসছে, একজন নারী নানা কারণে বেদনাদায়ক সঙ্গম সমস্যার মুখোমুখি হতে পারেন। এটা হতে পারে শুষ্ক যোনি, সঙ্গম চলাকালে উদ্বিগ্ন থাকা কিংবা নিরানন্দ সঙ্গম। তবে যৌনবাহিত কিছু রোগের কারণেও এটা হতে পারে।
গবেষণায় অংশ নেওয়া কিছু মহিলারা বলছেন, সঙ্গম তাদের এতই বেদনাদায়ক অভিজ্ঞতা দেয় যে, তারা সঙ্গম করা থেকে বিরত থাকছেন।
লন্ডনের ৬২ বছর বয়েসী ক্যারেন (নাম পরিবর্তিত) বলছেন, ৪০ বছর বয়েস থেকে তার এই সমস্যাটা হচ্ছে। তিনি বলছেন, ‘আমার স্বামী যদিও আমার সমস্যাটা বুঝতে পারেন, তারপরও তাকে এক পর্যায়ে ভয় পেতে শুরু করি আমি।’
ক্যারেন আরেকটি সমস্যার কথা বলেন, কোন কিছু তার যোনিপথ দিয়ে প্রবেশ করানোর উপক্রম করলেই আপনা আপনি তার যোনিপথ সংকুচিত হয়ে যেত। এটা শুধু সঙ্গমের ক্ষেত্রেই নয়, কোন ডাক্তারি পরীক্ষা করতে গিয়েও এটা হত, বলে বলছেন ক্যারেন।
পরে তিনি ডাক্তারের শরণাপন্ন হন এবং ডাক্তার তাকে ঔষধ দেন। ‘মহিলাদের জানা দরকার এ ধরণের সমস্যার জন্য সাহায্য পাওয়ার উপায় আছে। কিন্তু সেটা যথাসময়ে বলতে হবে বলে, মনে করছেন ক্যারেন। ‘অনেক মহিলা এই নিয়ে কথা বলতে চান না। আমরা সন্তান জন্ম দেওয়ার সময়কার ঘটনা নিয়ে নিজেদের মধ্যে বিস্তারিত আলাপ করি, কিন্তু আমাদের প্রজন্মের মহিলারা সঙ্গম এবং ঋতুস্রাব নিয়ে খোলাখুলি কথা বলতে আগ্রহী না। যা আমাদের কথা বলা উচিত।’ যদি নিজেদের মধ্যে সব বিষয় নিয়ে খলাখুলি আলোচনা করি তবে অনেক সমস্যার সমাধান সহজেই হয়ে যেতে পারে।

No comments