রাজধানীতে নেপালি ছাত্রীর আত্মহত্যা, নেপথ্যে কি?…, এ জন্যেই কি?…


পাইওনিয়ার ডেন্টাল কলেজের শিক্ষার্থী (নেপালি নাগরিক) বিনিশা শাহ আত্মহত্যা করেছেন। মঙ্গলবার (১৯ ডিসেম্বর) কোনো এক সময় রাজধানীর ভাটারা থানাধীন মেডিকেল কলেজটির হোস্টেলে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেন তিনি।

এ বিষয়ে ডিএমপির বাড্ডা জোনের সহকারী কমিশনার (এসি) আশরাফুল করিম বিডি২৪লাইভকে বলেন, প্রাথমিক তদন্তে আমরা জানতে পেরেছি, বিনিশা পরীক্ষার হলে অসদুপায় অবলম্বন করছিলেন। হলে দায়িত্বরত শিক্ষক তাকে ধমক দিলেও হল থেকে বের হয়ে যেতে বলেননি। তাকে ওই প্রশ্ন বাদ দিয়ে পরবর্তী প্রশ্নের উত্তর লেখার কথা বলেন। কিন্তু বিনিশা পরীক্ষা শেষ হওয়ার আগেই শিক্ষকের কথা অমান্য করে হল থেকে বেরিয়ে যান। এ ঘটনা থেকেই হোস্টেলের রুমে গিয়ে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

জানা গেছে, বিনিশা শাহ পাইওনিয়ার ডেন্টাল কলেজের ২২তম ব্যাচের ৩য় বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। মঙ্গলবার (১৯ ডিসেম্বর) তার টার্ম-২ পরীক্ষা ছিল। পরীক্ষা শেষ হওয়ার আধাঘণ্টা আগেই খাতা জমা দিয়ে কেন্দ্র থেকে বের হয়ে যান এবং হোস্টেল কক্ষে গিয়ে আত্মহত্যা করেন।

বিনিশা শাহ’র সহপাঠীরা জানান, শিক্ষক ও কলেজ কর্তৃপক্ষের অতিরিক্ত চাপেই বিনিশা শাহ আত্মহত্যা করেছেন।

নাম প্রকাশ না করে তারা বলেন, কলেজ কর্তৃপক্ষ টার্ম-২ পরীক্ষার আগে প্রবেশপত্র আটকে রেখে দুই লাখ টাকা করে দাবি করে। পরে যার কাছে যেমন পেরেছে টাকার বিনিময়ে প্রবেশপত্র দেয়া হয়েছে। এছাড়া কলেজ কর্তৃপক্ষ ইচ্ছে করেই টার্ম-২ পরীক্ষা কঠিন করে এবং ফেল করায়। পরে ৫০ থেকে ৭০ হাজার টাকার বিনিময়ে কৃতকার্য করানো হয়।

আজও টার্ম-২ পরীক্ষা কঠিন করা হয় এবং আধাঘণ্টা আগেই বিনিশা শাহ পরীক্ষা কেন্দ্র ত্যাগ করতে চাইলে শিক্ষকরা বকাবকি করেন। সহপাঠীদের অভিযোগ, বিনিশা শাহ হয়তো সে ভয়েই আত্মহত্যা করতে পারেন।

গুলশান বিভাগের উপ-কমিশনার (ডিসি) মোস্তাক আহমেদ জানান, মঙ্গলবার তার ট্রার্ম-২ পরীক্ষা ছিল। পরীক্ষায় অসদুপায় অবলম্বনের চেষ্টা করলে শিক্ষকরা তাকে ধরে ফেলে, কিন্তু পরীক্ষা দিতে বারণ করেনি। বিনিশা নিজেই হল থেকে বেরিয়ে যান। হতাশা থেকেই সে আত্মহত্যা করেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে আমরা আত্মহত্যার সম্ভাব্য কারণ খতিয়ে দেখছি। ক্রাইম সিন ইউনিট তার ঘর থেকে আলামত সংগ্রহ করছে।

No comments

Powered by Blogger.