একসঙ্গেই বাঁচব, হোক না জীবনের শেষ কয়টা দিন
পৃথিবীর নিয়ম জন্ম নিলেই মরতে হবে। মৃত্যুর হাত থেকে কেউ রক্ষা পাবে না। তবুও মানুষ বাঁচার জন্য কত কিনা করেন। সেটা হোক না কেন কয়েকদিন কিংবা কয়েক সপ্তাহ বাঁচার আশা সবারই থাকে।
সম্প্রতি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লরিডার এমনই একটি ঘটনা ঘটেছে। যা সত্যিই খুবই মর্মদায়ক।
ঘটনাটি হলো- চিকিৎসকরা জানিয়ে দিয়েছিলেন, তার আয়ু আছে আর মাত্র কয়েক সপ্তাহ। কারণ তার গোটা শরীরে ক্যানসার ছড়িয়ে পড়েছে। মৃত্যুর মুখোমুখি দাঁড়িয়েও হার মানেননি সেই উনিশ বছরের ডাস্টিন স্নেইডার। তিনি সময় নষ্ট না করে নিজের শেষ ইচ্ছেটি জানিয়েছিলেন প্রেমিকা সিয়েরা সিভেরিওকে। ডিনারের শেষে উপহার আর গোলাপের তোড়ার মাঝে বিয়ের প্রস্তাব সিয়েরা সিভেরিওকে। সিয়েরাও এক মুহূর্ত সময় নষ্ট করেননি তিনি রাজি হয়ে যান। তিনি যেন এই প্রশ্নের অপেক্ষাতেই ছিলেন। হাসতে হাসতেই বলে ওঠেন, ‘হ্যাঁ!’ আমি রাজি।
ইতোমধ্যে ফ্লরিডার ডাস্টিন ও সিয়েরার গল্পটা ছড়িয়ে পড়েছে সোশ্যাল মিডিয়ায়। আজ রবিবার (২৮ জানুয়ারি) ডাস্টিন ও সিয়েরার বিয়ে। বাড়ির কাছে ভ্যালরিকোর একটি কটেজে। কিন্তু দিনক্ষণ ঠিক হলেও এতো অল্প সময়ের মধ্যে সব জোগাড়যন্ত্র হবে কি? সেই চিন্তাটা অবশ্য মিটিয়ে দিয়েছেন নেটিজেনরা। ওঁদের বিয়ের জন্য টাকা জোগাড় করতে একটি ওয়েবপেজ খুলেছেন ডাস্টিনের বোন। শুক্রবার (২৬ জানুয়ারি) বিকেলের মধ্যেই তাতে জমা পড়েছে ১৩ হাজার ডলার!
ক্যানসার রোগে ছেলের চেহারা ভাঙলেও মনোবল ভাঙেনি এতটুকু- বলছিলেন ডাস্টিনের মা কাসান্ড্রা ফনডান। জানালেন, ডাস্টিন-সিয়েরা ছেলেবেলার বন্ধু। মাঝে ডাস্টিনের স্কুল বদলে যাওয়ায় বছর খানেক দু’জনের মধ্যে যোগাযোগ ছিল না। তিন বছর আগে হঠাৎ দেখা। দু’জনে ডেটেও গিয়েছেন কয়েক বার।
একটু থেমে মা বললেন, ২০১৬-তে খবরটা জানতে পারি। ডাস্টিনের জন্মদিনের ঠিক আগের দিন। সেটা ছিল জুনের কোনো একটা সোমবার। সেই সময়ে প্রায়ই অসুস্থ হয়ে পড়তেন ডাস্টিন। হু-হু করে ওজন কমছিল। চিকিৎসকেরা জানান, ফুসফুসের বিরল এক ধরনের ক্যানসারে ভুগছেন তিনি। শুরু হয় চিকিৎসা। কেমোথেরাপি, রেডিয়েশন- বাদ গেল না কিছুই।
মাস ছয়েক পরে দেখা গেল, রোগ খানিকটা নিয়ন্ত্রণে। তবে সে স্বস্তি ক্ষণস্থায়ী। কয়েক মাস যেতে না যেতেই ফের ফুসফুসে ছোপ ধরা পড়ল। জানা গেল, নতুন করে ক্যানসার ছড়িয়ে পড়েছে শরীর জুড়ে। আবার অস্ত্রোপচার, কেমোথেরাপি, ওষুধ। তবে পুরোপুরি সেরে ওঠার আশা ক্রমেই ক্ষীণ হচ্ছিল।
সম্প্রতি চিকিৎসকেরা জানিয়ে দেন, আর খুব বেশি হলে কয়েক সপ্তাহ বাঁচবেন ডাস্টিন। মুহূর্তে সব অন্ধকার হয়ে গিয়েছিল স্নেইডার পরিবারের সামনে।
আর তার পরেই ডাস্টিনের এই সিদ্ধান্ত। তিনি বলছেন, ‘‘পুরো লড়াইয়ে সিয়েরা আমার পাশে ছিল, আছেও। জীবনের শেষ মুহূর্তটা ওর সঙ্গেই কাটাতে চাই।’’ তরুণের দুরন্ত নীল চোখে তখন শুধুই বিয়ের স্বপ্ন। এই ক’দিন দম ফেলবার ফুরসত পাননি সিয়েরাও। ডাস্টিনের শেষ স্বপ্ন সত্যি করতে চরম ব্যস্ততায় কেটেছে দিনগুলো। আসলে ভালবাসার মানুষের হাত ধরে বাঁচার স্বপ্নটা যে তারও। হোক না কয়েকটা দিন।
সবাই এখন শুধু স্বপ্নের আজকের এই রবিবার টার অপেক্ষায় ছিলেন। সূত্র: আনন্দবাজার।

No comments