অ্যারেঞ্জ বিয়ে করছেন? এই বিষয়গুলো মাথায় রাখবেন


বিয়ের মাধ্যমে একটি ছেলে এবং একটি মেয়ের দুই মেরু এক বন্ধনে আবদ্ধ হয়। শুধু তাই নয় এর মাধ্যমে দুটি পরিবারও একটি বন্ধনে আবদ্ধ হয়। এটি একটি সামাজিক ব্যাপার। আজকাল প্রেম করেই বিয়ে হয় বেশি কিন্তু কিছু কিছু পরিবার আবার পারিবারিক বিয়েতেই আগ্রহী থাকে। এবং তাদের সন্তানকে পারিবারিক ভাবে বিয়ে দেন। পারিবারিক বিয়েতে অচেনা-অজানা মানুষের মিলন ঘটে ফলে তাদের স্বাভাবিক হতে বেশ কিছু দিন সময় লেগে যায়। কারন তখন কেউই কারো আচরন, অভ্যাস সম্পর্কে ধারণা থাকে না। তাই প্রথম প্রথম একটু বিড়ম্বনায় পরতে হয় এবং কিছু সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়। এক্ষেত্রে একটু ধৈর্য, সহনশীলতা আর কিছু পন্থা অবলম্বন করলেই অচেনা জীবনসঙ্গীকে মনের মতো করে নিতে পারবেন।

১. প্রথমত দুইজনই দুইজনকে বোঝার জন্য ৩/৪ মাস সময় নিন। দুজনের অভ্যাসগুলো সম্পর্কে অবগত করুন পরস্পরকে।

২. খাবারের ক্ষেত্রেও দুজনের রুচির প্রধান্য দিতে হবে। তাই খাবারের ক্ষেত্রে একে অপরের সুবিধা-অসুবিধা, পছন্দ-অপছন্দগুলো জানতে থাকুন। স্ত্রীর উচিত রান্না করার আগে স্বামীর পছন্দের দিকে খেয়াল রাখা। আর স্বামীর উচিত বাজার করার আগে স্ত্রীর সাথে আলোচনা করে নেয়া।

৩. রাতের ঘুমের ব্যাপারটাও মাথায় রাখতে হবে। কারণ অনেকেই রাতে তাড়াতাড়ি ঘুমানোর অভ্যাস আবার অনেকে আছে রাত জেগে টিভি দেখা বা কাজ করার অভ্যাস। তাই এই ক্ষেত্রে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে এটি বোঝাপড়া করে নেয়া যেতে পারে। যেমন যার ঘুম দরকার তিনি ঘুমিয়ে পড়লেন, আর যার রাত জাগা দরকার তিনি টেবিল ল্যাম্প জ্বালিয়ে কাজ করে নিলেন। এতে দুজনেরেই সুবিধা হবে।

৪. কলেজ বা বিশ্ববিদ্যালয় পরতে গেলে একটি ছেলে বা একটি মেয়ের অনেক বন্ধু-বান্ধবী হতেই পারে। কিন্তু বিয়ের পর স্ত্রী যদি স্বামীর অনেক মেয়েবন্ধু দেখে অথবা স্বামী যদি স্ত্রীর অনেক ছেলেবন্ধু দেখে তাহলে সেক্ষেত্রে এ বিষয় নিয়ে উলটোপালটা না ভেবে সঙ্গীর বন্ধুদের সাথে নিজেও বন্ধুত্ব করে ফেলুন। এতে যেমন আপনাদের সম্পর্ক গাঢ় হবে, তেমনি আপনি পাবেন সঙ্গীর আস্থা ও শ্রদ্ধা।

৫. আপনি যদি শান্ত প্রকৃতির হন আর আপনার সঙ্গী যদি হৈ-হুল্লোড় পছন্দ করেন তাহলে নিজেকেও ঐ পরিবেশের সাথে মানিয়ে নিতে চেষ্টা করুন এতে দুজই শান্তিতে থাকতে পারবেন।

৬. নবদম্পতি দুজনই যদি চাকরীজীবি হলে সময়ের অভাবে তাদের মধ্যে সম্পর্ক গঠনে কিছুটা বাধা পরে। তাই এক্ষেত্রে উচিত দুজন দুজনার কাজের চাপ বুঝে, আলোচনা করে ঠিক করে নিন নিজেদের একান্ত কিছু সময়। যেমন বিকেল কোথাও বেরাতে যাওয়া, সিনেমা দেখার জন্য একটি সন্ধ্যা বা জোছনা উপভোগ করার একটি রাতও আপনাদের দুজনকে নিয়ে আসতে পারে অনেক কাছে। আর এইভাবেই একদিন সম্পর্কটা হয়ে উঠবে স্বাভাবিক।

৭. অনেকেই মনের মতো বউ না পেলে হতাশ হয়ে পরেন। আফসস করতে থাকেন। কিন্তু এই পৃথিবীর যে কোন মানুষই এক নয় এবং সব মানুষই আলাদা, কারো সাথে কারো মিল নেই এই জিনিসটা মাথায় রেখেই সামনে এগোতে হবে। তাহলেই আপনার দাম্পত্যজীবন দ্রুত সুখময় হবে।

 (তথ্যসূত্র: ইন্টারনেট)

No comments

Powered by Blogger.