হোম প্রেগনেন্সি টেস্ট কী নির্ভরযোগ্য?


গর্ভধারণ প্রতিটি মায়ের জন্যে নিঃসন্দেহে আনন্দের সংবাদ। নিজ দেহের ভেতরে একটি নতুন প্রাণের আগমন, এমনটা ভাবতেই মনে অন্য রকম এক অনুভূতি হয়।

তবে অনেক মা আছেন তারা গর্ভবতী কিনা সেটা দুই-তিন মাস পর্যন্ত ঠিকভাবে বুঝে উঠতে পারেন না। প্রাথমিকভাবে গর্ভধারণের বিষয়টি জানতে তারা হোম প্রেগনেন্সি টেস্ট কিটের ওপর নির্ভর করেন।

আপনি মা হচ্ছেন এই সুখবর জানতে হোম প্রেগনেন্সি টেস্ট কিট একটি ভালো উপায়। কিন্তু এটি সম্পূর্ণ নির্ভরযোগ্য তো?

বিশেষজ্ঞদের মতে, গর্ভাবস্থা সম্পর্কে জানতে স্বাস্থ্য কেন্দ্রে বা স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞদের কাছে যাওয়া অত্যন্ত জরুরি। ঘরোয়া পরীক্ষা শুধুমাত্র আংশিকভাবে নির্ভরযোগ্য।

ঘরোয়া টেস্ট গোপনীয়তা বজায় রাখতে ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয়। এছাড়াও, অনেক দম্পতি গর্ভাবস্থা পরীক্ষার জন্য ক্লিনিকে যেতে অস্বস্তি বোধ করে থাকেন। এর কারণে তারা ঘরোয়া গর্ভাবস্থার পরীক্ষা পছন্দ করেন।

তবে দায়িত্বশীল হবু বাবা-মায়ের ঘরোয়া গর্ভাবস্থার পরীক্ষার ওপর আস্থা রাখা মোটেই উচিত নয়।

আর ঘরোয়া পরীক্ষা কেন নির্ভরযোগ্য উপায় নয় তা নিম্নে আলোচনা করা হলো;

* পরীক্ষার সরঞ্জামের সঙ্গে কিছু নির্দেশাবলী থাকে, সেগুলি সঠিকভাবে না মানলে ফলাফল সঠিক নাও হতে পারে।

* এ পরীক্ষার কিছু সময় পর সরঞ্জামটি শুষ্ক হয়ে যায় (প্রস্রাবের ফোটা বাষ্পীভূত হয়) আর তখনি পরীক্ষার দুটো দাগ কালো দেখায় যার ফলাফল পজিটিভ বলে ভুল হয়।

* পরীক্ষাটি নারীদের প্রস্রাবের এইচ সি জি (HCG) মাত্রা অনুযায়ী পরোক্ষ করে হয়। খুব তাড়াতাড়ি এই পরীক্ষাটি করলে ফলাফল নেগেটিভ আসতে পারে।

* এ পরীক্ষা ভ্রান্ত পজিটিভ ফলাফল প্রদান করে যা অপরিকল্পিত গর্ভধারণের ক্ষেত্রে আতংক সৃষ্টি করে। আবার যে সব দম্পতি গর্ভধারণের খুব চেষ্টা করছেন তাদের ক্ষেত্রে মিথ্যা ফলাফল বিষণ্নতা সৃষ্টি করতে পারে।

* নারীর কিছু শারীরিক সমস্যা যেমন: লিভারের সমস্যা এবং টিউমার (প্রজনন) এই পরীক্ষার সঠিক ফলাফলে প্রভাবিত করতে পারে।

* অনেক সময় এই পরীক্ষার কিছু ওষুধের কারণেও ভ্রান্ত ফল আসতে পারে যেমন: যেসব ওষুধে HCG আছে, কিছু ট্রাংকুইলাইজার্স, কিছু ডিউরেটিক্স আরও কিছু ওষুধ আছে যা পরীক্ষার ফলাফলে হস্তক্ষেপ করতে পারে।

Collected News : padmanews24.com

No comments

Powered by Blogger.