ছুটির দিনে বাড়তি খাওয়া, বেড়ে যাচ্ছে ওজন? জেনে নিন মুক্তি পাবার কৌশল!
পুরো সপ্তাহের ব্যস্ততা শেষে ছুটির দিনটার জন্যে সকলেই অপেক্ষা করে থাকে! এই একটা দিনে নিজের ইচ্ছা মতো ঘুমানো যায়, সিনেমা দেখা যায়, ঘুরাঘুরি করা যায় এবং নিজের ইচ্ছামতো খাওয়া দাওয়াও করা যায়। তবে একটা ব্যাপার আমরা একেবারেই ভুলে যাই যে, এই একদিনে কোন নিয়ম না মেনে খাওয়া দাওয়া করার ফলে ওজন বেড়ে যেতে পারে অনেকখানি! শুধুমাত্র একদিনের খামখেয়ালিপনাও ওজন বৃদ্ধির কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে। প্রতি সপ্তাহের ছুটির দিনে এইভাবে একটু করে ওজন বাড়তে থাকলে, একটা সময় পর এসে দেখা যাবে ওজন বেড়ে গিয়েছে অনেক বেশী।
তাই প্রতি সপ্তাহের ছুটির দিনটিতে ওজন যেন বেড়ে না যায় সেজন্য সচেতন হতে হবে। খুব সাধারণ কিছু নিয়ম মেনে চললেই সহজ হয়ে যাবে ছুটির দিনেও ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখার মতো কঠিন ব্যাপারটি।
১/ নিত্যদিনের মতো ছুটির দিনেও ঘুমের সময় ঠিক রাখুন
ছুটির দিন বলে অন্যান্য দিনের চাইতে কিছুটা সময় বেশী ঘুমালে তেমন কোন সমস্যা নেই। তবে বেশি লম্বা সময় নিয়ে ঘুমালে এবং অনেক দেরী করে ঘুম থেকে উঠলে স্বাভাবিক ঘুমের সময়ের প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্থ হয়ে পড়ে। যার ফলে ওজন বৃদ্ধি পাওয়া সহ হৃদযন্ত্রের সমস্যা, ডায়বেটিসের সমস্যা দেখা দেবার সম্ভবনা দেখা দেয়। এছাড়াও, দেরী করে ঘুম থকে ওঠার ফলে সকালের নাস্তা খাওয়া বাদ পরে যায়। কে না জানে, সকালের নাস্তা খাওয়া বাদ দিলে ওজন বেড়ে যাবার সম্ভবনা বেড়ে যায় অনেকখানি।
২/ সকালের নাস্তায় রাখুন স্বাস্থ্যকর খাবার
সকালের নাস্তায় স্বাস্থ্যকর খাবার খেলে সারাদিনের অতিরিক্ত খাবার খাওয়ার চাহিদা কম হয়। যার ফলে ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব হয়। পেট ভরে স্বাস্থ্যকর ও পুষ্টিকর খাবার খেলে অনেকখানি শক্তি পাওয়া যাবে দিনভর। তাই সকালের নাস্তার তালিকায় পুষ্টিকর খাবার রাখার চেষ্টা করতে হবে। সকালে যদি স্বাস্থ্যকর খাবার খেতে অনীহা হয় তবে খাবারগুলোকে দৃষ্টি নন্দনভাবে সাজিয়ে পরিবশন করলে খাবার খাওয়ার প্রতি আগ্রহের সৃষ্টি হয়। যেমন: শুধু দই খেতে ইচ্ছা না করলে দইয়ের উপরে কয়েক টুকরা আম, খেজুর এবং অল্প পরিমাণে মধু ছিটিয়ে দিয়ে পরিবেশন করলে সেটা দেখতেও যেমন দারুণ লাগবে, খেতেও মজাদার হবে।
৩/ চিপস নয় ফল নিয়ে সিনেমা দেখতে বসুন
ছুটি দিনে সকলের অন্যতম পছন্দের এবং প্রিয় কাজ হলো সিনেমা অথবা টিভি সিরিজ দেখতে বসা। আর একবার যদি কম্পিউটারের সামনে পছন্দের শো নিয়ে বসা হয় তবে টানা চার-পাঁচ ঘণ্টার আগে ওঠার নাম থাকে না। সিনেমা কিংবা সিরিজ দেখার সময়ে সবসময়ই কিছু না কিছু খাওয়ার প্রবণতা তৈরি হয় বলে অনেকেই চিপস, ফ্রেন্স ফ্রাই, চকলেট কিংবা পপকর্ণ সাথে নিয়ে সিনেমা দেখতে বসে পড়েন। সিনেমা দেখার সময়ে মনোযোগ অন্যদিকে থাকে বলে প্রয়োজনের তুলনায় খাওয়া অনেক বেশী হয়ে যায়। তাই চিপস কিংবা ফ্রেন্স ফ্রাই এর মতো অস্বাস্থ্যকর খাবার নিয়ে সিনেমা দেখতে না বসে ফ্রুট সালাদ এর মতো স্বাস্থ্যকর খাবার সাথে নিয়ে বসা উচিৎ।
৪/ প্রাত্যহিক শরীরচর্চা বাদ দেওয়া যাবে না
ছুটির দিন বলে অলসতা কাজ করতেই পারে, তবে সেটাকে কোনভাবেই প্রশ্রয় দেওয়া ঠিক হবে না। ছুটির দিনে বিশ্রাম অবশ্যই নেবেন, তবে প্রতিদিনের শরীরচর্চাকে বাদ দিলে নিয়ম ভঙ্গ হয়ে যাবে। যার ফলে শরীরে বাড়তি ওজন তৈরি হবার সম্ভবনা দেখা দেবে। তাই শরীরচর্চা একেবারেই না করার থেকে, ঘরে বসে ঘন্টাখানেক সময় নিয়ে ফ্রি-হ্যান্ড এক্সারসাইজ করে নিতে পারেন।
৫/ পানি পান করার কথা ভুলে গেলে চলবে না
সারাদিনে নানান ভাবে নিজেকে ব্যস্ত রাখার মাঝে পানি পান করার কথা ভুলে গেলে কিন্তু একেবারেই হবে না। পরিমিত পানি পান করার ফলে শরীরের বর্জ পদার্থ বের হয়, শারীরিক শক্তি বৃদ্ধি পায়, বাড়তি ক্যালরি কমে যায় এবং শরীরের প্রয়োজনীয় পানির চাহিদা পূরণ হয়। ছুটির দিনটাতে বিভিন্ন ধরণের অনুষ্ঠান, আয়োজন কিংবা সিনেমা দেখার ফাঁকে মনে করে পানি পান করতে হবে অবশ্যই।
৬/ ছুটির দিনের শেষে পুরো সপ্তাহের খাবারের তালিকা তৈরি করে ফেলুন
ছুটির দিনের শেষটা পুরো সপ্তাহের খাদ্য তালিকা প্ল্যান করে ফেলার জন্য দারুণ উপযোগী। তাই ছুটির দিনে রাতে লিখে ফেলুন পরবর্তি দিনগুলোতে কী কী স্বাস্থ্যকর খাবার খাবেন এবং তার জন্য কী কী খাবার কেনা প্রয়োজন। প্রয়োজনে আগামী দুই দিনের মতো খাবার ছুটির রাতে কেটে রেখে দিন রেফ্রিজারেটরে। বিশেষ করে খাদ্য তালিকায় একটা বড় অংশ রাখতে হবে বিভিন্ন প্রোটিন জাতীয় খাদ্য। যা একইসাথে পুষ্টিকর এবং স্বাস্থ্যকর।
সূত্র: Cure Joy , Reader’s Digest

No comments