আপনি কতদিন বাঁচবেন?
চিকিৎসা বিজ্ঞানের উন্নতির কারণে মানুষের গড় আয়ু বেড়েছে ঠিকই। কিন্তু সেঞ্চুরি পার হওয়া এখনও সহজ হয়নি। একমাত্র অল্প সংখ্যক মানুষরাই এই মাইল ফলক ছুঁতে পারেন। এক্ষেত্রে অনেকেই মনে করেন স্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়ার পাশাপাশি যদি জীবনযাপনে নিয়ন্ত্রণ এনা যায় তাহলে দীর্ঘজীবন একেবারে হাতের মুঠোয়। কিন্তু এই ধারনা একেবারে ভুল এমন নয়, তবে এর পাশাপাশি আরও বেশ কিছু ফ্যাক্টর আছে যা এক্ষেত্রে বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে। চলুন জেনে নেওয়া যাক কিভাবে দীর্ঘজীবন হাতের মুঠোয় নিয়ে আনা যায়-
১) কম বয়সী মায়ের শরীর থেকে জন্ম নিলে-
শুনতে একটু অন্য রকমের লাগছে,কিন্তু বিজ্ঞান প্রমাণ করেছে এই ধরণা একেবারেই ভুল নয়। আসলে ২৫ বছর বা তার কম বয়সী মায়ের শরীর থেকে যাদের জন্ম হয়, তাদের আয়ু সাধারণত ১০০ বছর হয়েই থাকে। সেই কারণে দেখবেন আগেকার দিনে মানুষেরা সুস্থ শরীরে অনেক দিন পর্যন্ত বাঁচতেন। কারণ সে সময় বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই মেয়েদের কম বয়সে বিয়ে এবং বাচ্চা প্রসব করত। এখন পরিস্থিতি একেবারে বদলে গেছে। স্বামী-স্ত্রী দুজনের কর্মরত হওয়ার কারণে পরিবার পরিকল্পনায় অনেক ক্ষেত্রেই দেরি করে বিয়ে করেন। ফলে সন্তান প্রসবের সময় মায়ের জীবনহানীর আশঙ্কা যেমন বাড়ছে, তেমনি বাচ্চাও একাধিক শারীরিক সমস্যা নিয়ে জন্ম নিচ্ছে।
২) অতিরিক্ত চা পান-
গ্রিন টি এবং কালো চা তে প্রচুর পরিমাণে রয়েছে ক্যাটাচিন নামে একটি উপাদান। এটি হার্টের স্বাস্থ্যের উন্নতিতে বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে। সেই সঙ্গে সারা শরীরে রক্ত প্রবাহ যাতে ঠিক মতো হতে পারে সেদিকেও খেয়াল রাখে। ফলে সার্বিকভাবে শরীরের উন্নতি ঘটে। বেশ কিছু বছর আগে হওয়া একটি গবেষণায় দেখা গিয়েছিল দিনে এক কাপ লাল চা অথবা গ্রিন টি পান করলে আয়ু চোখে পরার মতো বৃদ্ধি পায়।
৩) নিয়মিত হাঁটা-
যারা প্রতিদিন কম করে ৩০ মিনিট হাঁটেন তাদের আয়ু প্রায় চার গুণ বৃদ্ধি পায়,এমনই দাবি করে থাকেন চিকিৎসকেরা। আসলে হাঁটার সময় হার্টে অক্সিজেন সমৃদ্ধ রক্তের সরবরাহ বেড়ে যায়,ফলে স্বাভাবিকভাবেই হৃদপিণ্ডের স্বাস্থ্যের উন্নতি ঘটে। আর হার্ট ঠিক মতো দৌড়াবে তো সুস্থ শরীর এবং আয়ু বৃদ্ধি নিয়ে কোনও চিন্তাই থাকবে না।
৪) কালো জাম-
কালো জাম খান বেশি করে কারন,এই ফলে রয়েছে পনিফেনালস নামে একটি উপাদান,যা হার্টের স্বাস্থ্যের উন্নতি ঘটায়। সেই সঙ্গে স্মৃতিশক্তির রক্ষা হিসেবে কাজ করে। অ্যালঝাইমারসের মতো রোগে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কাও কমায়। ফলে সুস্থ এবং দীর্ঘ জীবনের পথ প্রশস্ত হয়।
৫) স্কুল ও কলেজ লাইফ-
একাধিক কেস স্টাডি করে দেখা গেছে যারা কম করে ১২ বছর আনন্দের সঙ্গে স্কুল এবং কলেজ লাইফ কাটিয়েছেন তাদের আয়ু বাকিদের থেকে বেশি হয়। আসলে স্কুল বা কলেজ আমাদের শুধু শিক্ষিত করে তোলে না, সেই সঙ্গে অনেক বিষয়ে সচেতনও করে। তাই তো জীবন সম্পর্কে ধরণাটা স্পষ্ট হয়ে যায়। সেই সঙ্গে শরীরে পক্ষে কী খারাপ এবং কী ভাল সে বিষয়েও জ্ঞান অর্জন করার সুযোগ মেলে। ফলে স্বাভাবিকভাবেই সুস্থ জীবনের পরিধি বাড়তে থাকে
৬) সুন্দর সম্পর্ক-
সুন্দর সম্পর্ককে ঘিরে জীবনের পথে এগিয়ে চললে স্ট্রেস নিয়ন্ত্রণে থাকে। ফলে হাজারো মারণ ব্যাধি ধারে কাছেও ঘেঁষতে পারে না। নানাবিধ রোগের প্রকোপ বৃদ্ধি পেতে থাকে। তাই একবার যদি স্ট্রেসকে নিয়ন্ত্রণে নিয়ে চলে আসতে পারেন, তাহলেই কেল্লাফতে। মা, বাবা, বন্ধু-বান্ধব এবং স্ত্রীর ভালবাসা এবং সাপোর্ট পেলে মানসিক শান্তি মেলে। ফলে স্বাভাবিকভাবেই শরীরেরও উন্নতি ঘটে। সেই কারণেই তো বলে একা বেঁচে থাকার মধ্যে কোনও আনন্দ নেই,যা পরিবারের সঙ্গে থাকার মধ্যে আছে।
Collected News : bd24live.com

No comments