একটি ব্লাড টেস্টে শনাক্ত করা যাবে ৮টি ক্যান্সার!


গবেষকেরা সম্প্রতি এমন একটি ব্লাড টেস্ট আবিষ্কার করেছেন যাতে আটটি পরিচিত ক্যান্সার শনাক্ত করা যাবে। এর মাঝে আছে যকৃৎ এবং অগ্ন্যাশয়ের ক্যান্সার, যা কিনা শনাক্ত করা খুবই কঠিন। এমনকি, উপসর্গ দেখা দেবার আগেই ক্যান্সার শনাক্ত করা যেতে পারে এই টেস্টের সাহায্যে, আশা করছেন গবেষকেরা। 

CancerSEEK নামের এই টেস্ট, রক্তে এমন কিছু উপাদান শনাক্ত করে যা প্রাথমিক পর্যায়ের ক্যান্সার নির্দেশক। এর মাঝে আছে ১৬ ধরণের ‘ক্যান্সার ড্রাইভ জিন’। এগুলো টিউমার নির্দেশ করে। এছাড়াও আট ধরণের প্রোটিন শনাক্ত করে এই টেস্ট। জানুয়ারির ১৮ তারিখে Science জার্নালে এই গবেষণা প্রকাশিত হয়। 

 “আশা করছি, বার্ষিক ডাক্তারি পরীক্ষার সময়ে আপনি যখন কোলেস্টেরল চেক করবেন, একই সাথে ক্যান্সারের টেস্টটাও করে ফেলা যাবে,” বলেন গবেষণার মূল লেখক, জন হপকিন্স ইউনিভার্সিটি স্কুল অফ মেডিসিনের জশুয়া কোহেন। 

শুধু তাই নয়, এই টেস্ট এমন কিছু ক্যান্সারের জন্য ব্যবহার করা যাবে যেগুলো শনাক্ত করার কোন উপায় বর্তমানে নেই। এগুলো হলো: ওভারিয়ান, স্টমাক, ইসোফ্যাগাল, লিভার এবং প্যানক্রিয়াটিক ক্যান্সার। এসব ক্যান্সার সাধারণত এমন অবস্থায় গিয়ে ধরা পড়ে, যখন রোগীকে সারিয়ে তোলা কঠিন হয়ে যায়। 

লিকুইড বায়োপসি

অনেকেই বলবেন, পুরনো ‘লিকুইড বায়োপসি’ ক্যান্সার টেস্টের সাথে এই ব্লাড টেস্টের পার্থক্য কী? লিকুইড বায়োপসি টেস্টগুলোও রক্তে ক্যান্সার শনাক্ত করার চেষ্টা করত। কিন্তু এই নতুন টেসড় রক্তে জিন এবং প্রোটিন শনাক্ত করতে সক্ষম যা কিনা আগের চাইতে অনেক ভাল ফল দেবে এবং বেশ কয়েকটি ক্যান্সার ধরে ফেলতে পারবে। 

এই টেস্টের জন্য ব্যবহৃত হয় আর্টিফিশিয়াল ইনটেলিজেন্স অ্যালগরিদম। রক্তে থাকা জিন এবং প্রোটিন কী কী পরিমাণে আছে তা দেখা হয় এবং তার থেকে নির্ণয় করা হয় রোগীর শরীরে কী ধরণের ক্যান্সার আছে, জানান কোহেন। সাধারণ ডাক্তাররাই এই টেস্ট করাতে পারবেন। এতে কোন ক্যান্সার ধরা পড়লে আরো বিশদ পরীক্ষা-নিরীক্ষার পরামর্শ দিতে পারবেন। 

উদাহরণস্বরূপ, এই ব্লাড টেস্টে যদি পাকস্থলীর ক্যান্সার ধরা পড়ে তাহলে আপনার ডাক্তার এন্ডোস্কপি করার পরামর্শ দিতে পারেন যাতে নিশ্চিত বোঝা যায় পাকস্থলীতে কিছু হয়েছে কিনা। একইভাবে, টেস্টে কোলন ক্যান্সার আছে এমন ফলাফল এলে ডাক্তার আপনাকে কোলনোস্কপি করার পরামর্শ দিতে পারেন। 

এই ব্লাড টেস্ট আসলে কতটা ভালো কাজ করে? তা জানার জন্য গবেষকেরা এক হাজার রোগীর ওপর তা পরীক্ষা করেন। তাদের সবারই আগে ক্যান্সার শনাক্ত হয়েছিল এবং সেই ক্যান্সার মেটাস্ট্যাসাইজ হয়নি (অর্থাৎ শরীরের অন্যত্র ছড়ায়নি)। এগুলোর মাঝে ছিল, ব্রেস্ট, ওভারিয়ান, স্টমাক, লিভার, প্যানক্রিয়াটিক, ইসোফ্যাগাল, কলোরেক্টাল এবং লাং ক্যান্সার। এর পাশাপাশি কন্ট্রোল গ্রুপে ছিলেন আরো ৮০০ জন্য সুস্থ মানুষ যাদের ক্যান্সার নেই। 

গবেষণায় দেখা যায়, এই টেস্ট ৬৯ থেকে ৯৫ শতাংশ নিখুঁত ফলাফল দিতে পারে। ক্যান্সার যত বেশী অ্যাডভান্সড, এই ব্লাড টেস্ট ততটাই নিখুঁত ফলাফল দিতে পারে। 

তবে রোগীর শরীরে যদি প্রাথমিক পর্যায়ের ক্যান্সার থাকে তবে এই টেস্টে তা ধরা পড়ার সম্ভাবনা থাকে মাত্র ৪০ শতাংশ ক্ষেত্রে। বিশেষজ্ঞরা এই টেস্টের মূল দুর্বলতা হিসেবে দেখছেন এ ব্যাপারটাকে। কোহেন জানান, এই টেস্ট আরো নিখুঁত করে তুলতে কাজ করছেন তারা। 

সূত্র: Live Science

No comments

Powered by Blogger.