২৭ বছরেই কোটিপতি!


সঠিক পরিকল্পনা আর পরিশ্রম থাকলে কম বয়সেও যে শেকড় থেকে শিখরে আরোহন করা যায়, তার বহু নজির দেখা গেছে একুশ শতকে। বিশ্বায়নের এ কালে যথোপযুক্ত উদ্যোগ কিংবা প্রযুক্তিতে পারদর্শিতা দেখিয়ে বহু শিশু, কিশোর কিংবা তরুণ পেয়েছে কাঙ্ক্ষিত সাফল্য। তাদেরই একজন উশিক গালা। সিংহভাগ পরিশ্রম আর কিঞ্চিৎ সৌভাগ্য নিয়ে মাত্র ২৭ বছর বয়সেই কোটিপতি বনে যান ভারতীয় এই যুবক।

উশিকের জন্ম ব্যবসায়ী পরিবারে। এ কারণে কম বয়সেই ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান পরিচালনায় হাতেখড়ি হয় তার। কলেজে পড়ার সময় বাবার পোশাক ব্যবসায় কিছুটা ধস নামে। ২০০৬ থেকে ২০০৮ সাল পর্যন্ত সময়ে সেটি ক্রমশ অবনতির দিকে যায়। এক পর্যায়ে শোচনীয় পরিণতি হয় উশিকের বাবার ব্যবসার। প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দিয়ে নিদারুণ সমস্যায় পড়ে গোটা পরিবার। কিন্তু পরিবারের অন্য কোনো সদস্যও সেই ব্যবসার হাল ধরেননি।

২০১০ সালের দিকে উশিক জীবিকার মাধ্যম হিসেবে ব্যবসায় পা বাড়ান। সে সময় তার পকেটে ছিল গুনে গুনে ৩১১ রুপি। তিনি সিদ্ধান্ত নেন যে তার বাবার ব্যবসাকে একবারে ধ্বংস হতে দেবেন না। এ কারণে তিনি সেই ব্যবসা শুরু করার জন্য পরিকল্পনা করে তা বাস্তবায়নের পদক্ষেপ নেন। একদিকে পুঁজি খুবই স্বল্প, অন্যদিকে দ্রুতগামী মার্কেট। অবস্থা তখন এমন যে, যদি কোনো ভুল হয়ে যায় অথবা মূলধন ভুল খাতে ব্যয় হয়, তবে পুরো পরিবারকেই নামতে হতো পথে।

আশার কথা হলো, এত সব প্রতিকূলতার মধ্যেও উশিকের ছিল দূরদর্শিতা। তিনি জানতেন কীভাবে মৃতপ্রায় ব্যবসাকে সতেজ করা সম্ভব। ২০১২ সালে বাজারের মন্দা কেটে যেতে থাকলে তিনি সিদ্ধান্ত নেন নতুনভাবে নিজের ব্যবসা নিয়ে বাজারে প্রবেশ করার। এবার তিনি বিয়ের পোশাক নিয়ে কাজ করার সিদ্ধান্ত নেন।

এ বিষয়ে এক সাক্ষাৎকারে উশিক বলেন, 'বাজারের অন্যতম প্রভাবশালী ব্যবসায়ীদের মাঝে প্রবেশ করার ব্যাপারটি বেশ উদ্বেগজনক ছিল। সবাই এই একই মডেল নিয়ে কাজ করছে। এ জন্য সেটা খুবই প্রতিযোগিতাপূর্ণ হয়ে দাঁড়ায়। পুরো মডেলটা বদলানোর জন্য আমাকে অনেক বড় ঝুঁকি নিতে হয়।’

‘কারণ আমি ব্যর্থ হলে পরিবারকে দেওয়ার মতো আর কিছুই থাকত না। এমন অবস্থায় আমি চোখ বন্ধ করে ভাবার চেষ্টা করলাম। ইতোমধ্যে আমি পোশাক তৈরির ব্যবসাতে আছি। তাই ভাবলাম ব্যবসাকে চলতি সময়ের চাহিদার ওপর নির্ভর করে বৃদ্ধি করার।'

ইয়ংগেস্ট সিইও, এক্সিলেন্স অ্যাওয়ার্ড ইন গার্মেন্ট ইন্ডাস্ট্রি পুরস্কার হাতে উশিক। ছবি:কেনফোলিওস

নিজের ব্যবসায় শক্ত একটি অবস্থান তৈরি করার পর ২০১৪ সালে উশিক ‘সুমায়া লাইফস্টাইল’ নামে প্রতিষ্ঠান চালু করেন। তিনি খেয়াল করে দেখলেন, মানুষের পছন্দ খুব দ্রুত পরিবর্তিত হয়। এর ফলে তাকে সেই ক্ষেত্রে অনেক বেশি সময় দিতে হয়।

২০১২ সালে সুমায়া লাইফস্টাইল চালুর পর ২০১৪ সালে নিজের দুই লাখ টাকা দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে সেটার যাত্রা শুরু হয়। এই দুই বছর বিয়ের পোশাক বিক্রয় করার পরে উশিক নারীদের সাধারণ পোশাক তৈরি ও বিক্রয়ের দিকে ঝোঁকেন। তার ব্যবসায়ের এই পরিবর্তনের ফলে তিন-চার বছরের মধ্যেই লাভ কোটির ঘর ছুঁয়ে ফেলে।

মুম্বাইয়ে কারখানায় নানা ধরনের পোশাক তৈরি করে ভারতসহ বিভিন্ন দেশে সরবরাহ করা শুরু করেন উশিক। বর্তমানে তার সুমায়া লাইফস্টাইল ভারতের অন্যতম শীর্ষ একটি ব্র্যান্ড।

সুমায়া লাইফস্টাইলের সাফল্যের জের ধরে উশিক নতুন আরেকটি প্রতিষ্ঠান খোলেন, যার নাম সুমায়া ফেব্রিক।  ২০১৮ সালের মার্চ নাগাদ দুটি প্রতিষ্ঠানের আয়ের হিসাব দাঁড়াবে ৬১৪ কোটিতে!

স্বঅর্থায়নে প্রতিষ্ঠিত সুমায়া গ্রুপ বর্তমানে ব্যবসায় ১১০ কোটি রুপি বিনিয়োগ করছে। তার প্রতিষ্ঠিত সুমায়া লাইফস্টাইল বর্তমানে দুবাই, ওমান ও যুক্তরাষ্ট্রেও কার্যক্রম ছড়িয়েছে।

পোশাক শিল্পে এমন দারুণ প্রভাব রাখায় উশিক ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিস থেকে পেয়েছেন 'ইয়ংগেস্ট সিইও, এক্সিলেন্স অ্যাওয়ার্ড ইন গার্মেন্ট ইন্ডাস্ট্রি।' এমনকি তিনি সবচেয়ে অল্প বয়সী বিলিয়নিয়ার হিসেবে জেইন কমিউনিটিতেও মনোনীত হন।

বিনয়ী ও পরিশ্রমী ২৭ বছর বয়সী উশিক বলেন, ‘কঠোর পরিশ্রম করলে সেই কর্মই ভালো কিছু ফিরিয়ে দেবে।’

 

সূত্র: কেনফোলিওস

No comments

Powered by Blogger.