স্তন ক্যান্সার প্রতিরোধ করবে যেসব খাবার
বিশ্বে দুরারোগ্য রোগগুলোর মধ্যে ক্যান্সার অন্যতম। বিভিন্ন ধরনের ক্যান্সারে আক্রান্ত অসংখ্য মানুষ। এর মধ্যে স্তন ক্যন্সারে আক্রান্তের সংখ্যাও নেহায়েত কম নয়। বয়স ও লিঙ্গভেদে যে কেউ শিকার হতে পারেন এই রোগের। তবে তুলনামূলকভাবে নারীদের বেশি মাত্রায় এই ক্যান্সারে আক্রান্ত হতে দেখা যায়। এ থেকে বাঁচার উপায় নিয়ে দেশে দেশে গবেষণা করছেন চিকিৎসক ও স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা। তাদেরই একজন যুক্তরাষ্ট্রের ব্লগার, লেখক ও পুষ্টিবিদ জেনিস থম্পসন। তিনি মনে করেন, প্রাকৃতিক কিছু খাবার গ্রহণে স্তন ক্যান্সার অনেকাংশেই প্রতিরোধ করা সম্ভব।
স্তন ক্যান্সার প্রতিরোধে জেনিস নিম্নোল্লিখিত খাবার গ্রহণে বেশি গুরুত্বারোপ করেছেন।
গ্রিন টি
নিয়মিত গ্রিন টি বা সবুজ চা পান স্তন ক্যান্সার প্রতিরোধে দারুণ ভূমিকা পালন করে। গ্রিন টিতে আছে অ্যান্টি অক্সিডেন্ট ও ফাইটোকেমিক্যাল যা শরীরে ক্যান্সার কোষ তৈরিতে বাধা দেয়। বেশ কিছু গবেষণা থেকে দেখা গেছে, গ্রিন টি পান প্রায় সব ধরণের ক্যান্সারের ঝুঁকি কমিয়ে ফেলতে কার্যকর।
ব্রকলি
বিভিন্ন ধরণের সবজির মধ্যে ব্রকলিতে রয়েছে সর্বাধিক পরিমাণে ইন্দোলেস ও সালফোরোফ্যান। ক্যান্সার কোষকে মেরে ফেলার জন্য এই দুটি উপাদান বেশ পরিচিত। ক্যান্সার আক্রান্ত রোগীদের প্রতিদিনের খাদ্যাভ্যাসে ব্রকলি যোগ করলে বিশেষ উপকার পাওয়ার সম্ভবনা থাকে। বিশেষ করে স্তন ক্যান্সার, ফুসফুসের ক্যান্সার, মূত্রাশয়ের ক্যান্সার ও প্রস্টেট ক্যান্সারের জন্যে ব্রকলিকে সবচেয়ে উপকারী উপাদান মনে করা হয়।
মরিচ
মরিচে থাকা বিশেষ ধরনের পুষ্টিগুণ ও ফাইটোকেমিক্যাল শরীরে ক্যান্সার তৈরিতে বাধা দেয়। বিশেষ করে কাঁচামরিচে রয়েছে ক্যাপসাইসিন নামক উপাদান যা ক্যান্সার কোষ জন্মানো প্রতিহত করে। এ ছাড়াও মরিচে থাকা প্রচুর পরিমাণে ক্লোরোফিল অন্ত্রের ক্যান্সারের ক্ষেত্রে বিশেষ উপকারী।
ডালিম/বেদানা
স্তন ক্যান্সারের ক্ষেত্রে ডালিম খাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়ে থাকে। ডালিমে রয়েছে সবচেয়ে বেশি পলিফেনল। এই পলিফেনলে আছে ইলাজিক অ্যাসিড, যা ক্যান্সার কোষের বৃদ্ধিকে কমিয়ে ফেলে। প্রতিদিন এক গ্লাস পরিমাণ ডালিম ফলের রস গ্রহণে ক্যান্সারের প্রক্রিয়া ধীর হয়।
রসুন
দারুণ পরিচিত খাদ্য উপাদান রসুন শুধু রান্নার জন্য প্রয়োজনীয় উপাদান নয়, নিজেকে সুস্থ রাখতেও ভীষণ উপকারী প্রাকৃতিক এই উপাদানটি। রসুনে পাওয়া যায় অ্যালিয়াম, যা ক্যান্সার কোষ উৎপন্নকারী টিউমারের বৃদ্ধিকে কমিয়ে ফেলে। বিভিন্ন ধরনের ক্যান্সার কোষ তৈরিতে বাধা দেওয়ার পাশাপাশি স্তন ক্যান্সারের ক্ষেত্রেও রসুন উপকারী ভূমিকা পালন করে।
গবেষকদের পরামর্শ অনুযায়ী কোনো ব্যক্তি যদি ক্যান্সারবিহীন সুস্থ জীবন কাটাতে চায়, তবে প্রতিদিনের খাদ্যাভ্যাসে রসুন ও পেঁয়াজ রাখার চেষ্টা করতে হবে। তবে রান্নায় রসুন ব্যবহারের চাইতে কাঁচা রসুন গ্রহণ করা বেশি ইতিবাচক প্রভাব তৈরি করে। প্রতিদিন সকালে এক কোয়া রসুন চিবিয়ে খেয়ে ফেলার অভ্যাস শরীরকে ক্যান্সারমুক্ত রাখবে বলে জানান গবেষকেরা।
সবুজ শাক-সবজি
আমরা সবাই জানি স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস শরীরকে সুস্থ ও ফিট রাখতে সাহায্য করে। যেকোনো ধরণের সবুজ শাক ও সবজি স্বাস্থ্যকর খাদ্য হিসেবে সুপরিচিত। এ ধরনের খাদ্য উপাদানে থাকে প্রচুর পরিমাণে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, ভিটামিন, মিনারেল ও এনজাইম। এ ছাড়াও প্রায় সব ধরনের সবুজ শাকে থাকে ক্যান্সার প্রতিরোধী উপাদান। সবুজ এসব শাক ও সবজিতে থাকে উচ্চমাত্রায় গ্লুকোসিনোলেটস, যা ক্যান্সার কোষ তৈরিতে বাধা দেয়। এর ফলে শরীরের অভ্যন্তরে ক্যান্সার দেখা দিলেও এসব উপাদান নিয়মিত গ্রহণে ক্যান্সার কোষ বিনষ্ট হয়ে যায়। রান্না করে অথবা অল্প পানিতে সিদ্ধ করে ও সবুজ শাক-সবজির রস তৈরি করে গ্রহণ করার অভ্যাস করা স্বাস্থ্যের জন্য বিশেষভাবে উপকারী।
সূত্র: কিউরজয়

No comments